spot_img
26 C
Dhaka

৩০শে নভেম্বর, ২০২২ইং, ১৫ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯বাংলা

সর্বশেষ
***আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ জিতলে বাংলাদেশের উচ্ছ্বাস দেখতে আসবেন আর্জেন্টাইন সাংবাদিক***যৌনপল্লীর গল্প নিয়ে পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা ‘রঙবাজার’***কেন ক্ষমা চাইলেন কিংবদন্তি গায়ক বব ডিলান***বিলুপ্তপ্রায় কুমিরের সন্ধান, পুনর্ভবা নদীর তীরে মানুষের ভিড়***সোহরাওয়ার্দী উদ্যান নয়, নয়াপল্টনেই হবে সমাবেশ : বিএনপি***পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসী দল টিটিপি ইসলামাবাদের গলার কাঁটা?***পাকিস্তান-আফগানিস্তানের সম্পর্ক কি শেষের পথে?***শীত মৌসুম, তুষার এবং বরফকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে রাশিয়া : ন্যাটো***নানা সুবিধাসহ বাংলাদেশ ফাইন্যান্সে চাকরির সুযোগ***বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষার সূচি ও আসনবিন্যাস প্রকাশ

আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম প্রধান কবি শামসুর রাহমান

- Advertisement -

ডেস্ক নিউজ, সুখবর বাংলা: আধুনিক বাংলা সাহিত্যের এক অনন্য ও অন্যতম প্রধান কবি শামসুর রাহমান। বিংশ শতাব্দীর দ্বিতীয় ভাগ, তথা পঞ্চাশের দশকে তিনি আধুনিক কবি হিসেবে বাংলা কবিতায় আবির্ভূত হন। অল্প সময়ের ভেতরেই দুই বাংলায় (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম বাংলায়) কবি হিসেবে পরিচিতি পান।

কাব্য রচনায় সৃষ্টিশীলতা ও মননের দ্যুতিময় উপস্থাপনা তাকে দিয়েছে কবিতার বরপুত্রের উপাধি। ছন্দোময় ও শিল্পিত শব্দের প্রক্ষেপণে কবিতার চরণে চরণে বলেছেন দেশ, মাটি ও মানুষের কথা। পরাধীনতার শৃঙ্খল পেরিয়ে বাঙালীর স্বাধীনতার কথাও বলেছেন কবিতার ভাষায়। নাগরিক এই কবি আমৃত্যু স্বদেশ ও শেকড়ের প্রতি ছিলেন দায়বদ্ধ।

পাশাপাশি সমকালীনতা ধারণ করে সারাজীবন অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক ও শোষণমুক্ত সমাজের কথা বলেছেন কাব্যের ছন্দে। আজ ২৩ অক্টোবর শনিবার বাংলাদেশ ও বাংলা ভাষার অন্যতম প্রধান এই কবির জন্মদিন। ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর কবি শামসুর রাহমান পুরানো ঢাকার মাহুতটুলি এলাকায় নানা বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। আর মৃত্যুবরণ করেন ২০০৬ সালের ১৭ আগস্ট।

আধুনিক কবিতার অনন্য পৃষ্ঠপোষক বুদ্ধদেব বসুর ‘কবিতা’ পত্রিকায় ‘রূপালি স্নান’ কবিতাটি প্রকাশিত হলে কবি হিসেবে শামসুর রাহমান সুধীজনের দৃষ্টিলাভ করেন। পরবর্তীতে উভয় বাংলাতেই তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব এবং জনপ্রিয়তা প্রতিষ্ঠিত হয়।

তিনি নাগরিক কবি, তবে নিসর্গ তাঁর কবিতায় খুব কম ছিল না। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ওপর লিখিত তাঁর দুটি কবিতা খুবই জনপ্রিয়। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তিনি মজলুম আদিব (বিপন্ন লেখক) ছদ্মনামে কলকাতার বিখ্যাত দেশ ও অন্যান্য পত্রিকায় কবিতা লিখতেন। শামসুর রাহমানের ডাক নাম বাচ্চু।

শামসুর রাহমানের পিতা মুখলেসুর রহমান চৌধুরী ও মা আমেনা বেগম। পৈতৃক বাড়ি নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানার পাড়াতলী গ্রামে। কবি শামসুর রাহমান ১৩ জন ভাই-বোনের মধ্যে ছিলেন ৪র্থ।

১৯৪৫ সালে পুরনো ঢাকার পোগোজ স্কুল থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করেন। ১৯৪৭ সালে ঢাকা ইন্টারমিডিয়েট কলেজ থেকে আইএ পাশ করেন। এরপর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে স্নাতক শ্রেণিতে ভর্তি হন এবং তিন বছর নিয়মিত ক্লাস করেন।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর মূল পরীক্ষা দেননি। ১৯৫৩ সালে পাস কোর্সে বিএ পাশ করে তিনি ইংরেজি সাহিত্যে এমএ (প্রিলিমিনারি) পরীক্ষায় দ্বিতীয় বিভাগে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করলেও শেষ পর্বের পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেননি।

বিংশ শতকের তিরিশের দশকের পাঁচ মহান কবির পর তিনিই আধুনিক বাংলা কবিতার প্রধান পুরুষ হিসেবে প্রসিদ্ধ। কেবল বাংলাদেশের কবি আল মাহমুদ এবং পশ্চিমবঙ্গের কবি শক্তি চট্টোপাধ্যায় বিংশ শতকের শেষার্ধে তুলনীয় কাব্যপ্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন বলে ধারণা করা হয়।

আধুনিক কবিতার সাথে পরিচয় ও আন্তর্জাতিক-আধুনিক চেতনার উন্মেষ ঘটে ১৯৪৯-এ, এবং তার প্রথম প্রকাশিত কবিতা ১৯৪৯ মুদ্রিত হয় সাপ্তাহিক সোনার বাংলা পত্রিকায়। শামসুর রাহমান বিভিন্ন পত্রিকায় সম্পাদকীয় ও উপসম্পাদকীয় লিখতে গিয়ে নানা ছন্দনাম নিয়েছেন।

সে গুলো হচ্ছে: সিন্দবাদ, চক্ষুষ্মান, লিপিকার, নেপথ্যে, জনান্তিকে, মৈনাক। পাকিস্তান সরকারের আমলে কলকাতার একটি সাহিত্য পত্রিকায় মজলুম আদিব (বিপন্ন লেখক) নামে কবিতা ছাপা হয় যা দিয়েছিলেন বাংলা সাহিত্যের বিশিষ্ট সমালোচক আবু সায়ীদ আইয়ুব।

শামসুর রাহমানের প্রকাশিত গ্রন্থের পূর্ণ তালিকার জন্য দেখুন শামসুর রাহমানের গ্রন্থাবলি: বন্দী শিবির থেকে (১৯৭২): এ কাব্যে স্বাধীনতা যুদ্ধকালীন আবেগ ও প্রত্যাশা প্রাধান্য পেয়েছে। এ কাব্যের মাধ্যমে তিনি কবি খ্যাতি অর্জন করেন। তিনি ‘মজলুম আদিব’ ছদ্মনামে কাব্যগ্রন্থটি রচনা করেন।

এ কাব্যের অধিকাংশ কবিতা মুক্তিযুদ্ধকালে অবরুদ্ধ সময়ে রচিত। এ কাব্যটি ১৯৭১ সালের শহিদদের প্রতি উৎসর্গ করা হয়। এ গ্রন্থে ৩৮ টি কবিতার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা’ ’স্বাধীনতা তুমি’।

উদ্ভট উটের পিঠে চলছে স্বদেশ (১৯৮২): ১৯৭৫-৮২ সাল পর্যন্ত দেশে সংঘটিত একাধিক সামরিক অভ্যুত্থান এবং সামরিক শাসনের যুপকাষ্ঠে দেশ ও জনগণের চরম অবস্থার প্রতিফলন আছে এ কাব্যে।

প্রকাশিত গ্রন্থসংখ্যা: কাব্যগ্রন্থ – ৬৬ (* ”প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে” (১৯৬০) * ”রৌদ্র করোটিতে” (১৯৬৩) * ”বিধ্বস্ত নিলীমা” (১৯৬৭) * ”নিরালোকে দিব্যরথ” (১৯৬৮) * ”নিজ বাসভূমে” (১৯৭০) * ”বন্দী শিবির থেকে” (১৯৭২) * ”দুঃসময়ে মুখোমুখি” (১৯৭৩) * ”ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাটা” (১৯৭৪) * ”আদিগন্ত নগ্ন পদধ্বনি” (১৯৭৪) * ”এক ধরনের অহংকার” (১৯৭৫) * ”আমি অনাহারী” (১৯৭৬) * ”শূন্যতায় তুমি শোকসভা” (১৯৭৭) * ”বাংলাদেশ স্বপ্ন দেখে” (১৯৭৭) * ”প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে” (১৯৭৮) * ”প্রেমের কবিতা” (১৯৮১) * ”ইকারুসের আকাশ” (১৯৮২) * ”মাতাল ঋত্বিক” (১৯৮২) * ”উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে” (১৯৮৩) * ”কবিতার সঙ্গে গেরস্থালি” (১৯৮৩) * ”নায়কের ছায়া” (১৯৮৩) * ”আমার কোন তাড়া নেই” (১৯৮৪) * ”যে অন্ধ সুন্দরী কাঁদে” (১৯৮৪) * ”অস্ত্রে আমার বিশ্বাস নেই” (১৯৮৫) * ”হোমারের স্বপ্নময় হাত” (১৯৮৫) * ”শিরোনাম মনে পড়ে না” (১৯৮৫) * ”ইচ্ছে হয় একটু দাঁড়াই” (১৯৮৫) * ”ধুলায় গড়ায় শিরস্ত্রাণ” (১৯৮৫) * ”এক ফোঁটা কেমন অনল” (১৯৮৬) * ”টেবিলে আপেলগুলো হেসে উঠে” (১৯৮৬) * ”দেশদ্রোহী হতে ইচ্ছে করে” (১৯৮৬) * ”অবিরল জলভূমি” (১৯৮৬) * ”আমরা ক’জন সঙ্গী” (১৯৮৬) * ”ঝর্ণা আমার আঙুলে” (১৯৮৭) * ”স্বপ্নেরা ডুকরে উঠে বারবার” (১৯৮৭) * ”খুব বেশি ভালো থাকতে নেই” (১৯৮৭) * ”মঞ্চের মাঝখানে” (১৯৮৮) * ”বুক তার বাংলাদেশের হৃদয়” (১৯৮৮) * ”হৃদয়ে আমার পৃথিবীর আলো” (১৯৮৯) * ”সে এক পরবাসে” (১৯৯০) * ”গৃহযুদ্ধের আগে” (১৯৯০) * ”খন্ডিত গৌরব” (১৯৯২) * ”ধ্বংসের কিনারে বসে” (১৯৯২) * ”হরিণের হাড়” (১৯৯৩) * ”আকাশ আসবে নেমে” (১৯৯৪) * ”উজাড় বাগানে” (১৯৯৫) * ”এসো কোকিল এসো স্বর্ণচাঁপা” (১৯৯৫) * ”মানব হৃদয়ে নৈবদ্য সাজাই” (১৯৯৬) * ”তুমিই নিঃশ্বাস তুমিই হৃৎস্পন্দন” (১৯৯৬) * ”তোমাকেই ডেকে ডেকে রক্তচক্ষু কোকিল হয়েছি” (১৯৯৭) * ”হেমন্ত সন্ধ্যায় কিছুকাল” (১৯৯৭) * ”

এসি/

আরো পড়ুন:

ভালোবাসার জন্যে আকাশের ঠিকানায় চিঠি লেখার কবি রুদ্রের জন্মদিন আজ

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ