spot_img
19 C
Dhaka

৫ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ইং, ২২শে মাঘ, ১৪২৯বাংলা

আধুনিক বাংলা গানের স্বর্ণযুগের অন্যতম কিংবদন্তী শ্যমল মিত্র

- Advertisement -

বিনোদন ডেস্ক, সুখবর ডটকম: ‘চেনা চেনা লাগে তবু অচেনা, ভালোবাসো যদি কাছে এসোনা’- এ গান সংগীত প্রেমিকদের অন্তরে এখনো ঝংকার তোলে। শ্যামল মিত্র নামটি আমাদের কাছে কমবেশী পরিচিত। পঞ্চাশ ও ষাটের দশকের সবচেয়ে জনপ্রিয় গায়কদের অন্যতম কিংবদন্তী পশ্চিম বাংলা তথা উপমহাদেশে বাংলা গানের প্রখ্যাত সঙ্গীত শিল্পী শ্যামল মিত্রের আজ জন্মদিন ।

১৯২৯ সালের ১৪ই জানুয়ারি অধুনা ভারতের কলিকাতার কাছাকাছি উত্তর ২৪ পরগনার শহর নৈহাটিতে জন্মগ্রহণ করেন শ্যামল মিত্র। বাবা সাধন কুমার মিত্র চেয়েছিলেন ছেলে হোক তাঁর মতো এক আদর্শ স্বনামধন্য চিকিৎসক। বাবার চাওয়ার আগেই সুরের সরগম ছুঁয়েছিল তার মন। তাই আর মানা হয়নি পিতৃ আদেশ। পিতা-পুত্রের সম্পর্কে পড়েছিল অসম ভাঁজ। তবুও গানেই ভুবন ভরিয়েছিলেন তিনি।

তিনি ছিলেন আধুনিক বাংলা গানের স্বর্ণযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ একজন সংগীতশিল্পী, সুরকার এবং প্রযোজক। হিন্দি, অহমিয়া ও ওড়িয়া ছবিতেও তিনি গান গেয়েছেন। কৈশরেই গণনাট্য এবং সলিল চৌধুরীর সংস্পর্শে আসেন এবং ভগিনী রেবার সঙ্গে “ও আলোর পথ যাত্রী” গানটিতে কণ্ঠ দান করেন।

১৯৪৯-এ সুনন্দার বিয়ে ছবিতে নেপথ্য শিল্পী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেও ১৯৫২ সালে সুধীরলাল চক্রবর্তীর মৃত্যুর পর গাওয়া ‘স্মৃতি তুমি বেদনার’ গানটি তাকে খ্যাতির তুঙ্গে তুলে দেয়। সংগীত পরিচালক হিসাবে শতাধিক ছবিতে তিনি কাজ করেছেন। এর মধ্যে যমালয়ে জীবন্ত মানুষ, দেয়া-নেয়া, ভানু গোয়েন্দা জহর অ্যাসিস্ট্যান্ট, বনপলাশীর পদাবলী, অমানুষ, আনন্দ আশ্রম, ধনরাজ তামাং, কলঙ্কিনী, কেনারাম-বেচারাম প্রভৃতি বিশেষ উল্লেখযোগ্য।

তার কণ্ঠে গানে ভুবন ভরিয়ে দেবে- ‘আমার স্বপ্নে দেখা রাজকন্যা’, ‘আমি তোমার কাছেই ফিরে আসব’, ‘তিনটি মন্ত্র নিয়ে যাদের জীবন, ‘এই সুন্দর পৃথিবী ছেড়ে ইত্যাদি গান বাঙালি সংস্কৃতির অঙ্গীভূত হয়ে গেছে।

এক সময় হেমন্তের মতো শ্যামল মিত্র ছাড়া বাংলা ছবির গান ভাবাই যেতো না। তাঁর শ্রুতিমধুর কন্ঠস্বরের আবেগ প্রতিফলিত হয় তাঁর গাওয়া প্রতিটি গানে। তিনি নেপথ্য গায়ক হিসাবে শতধিক বাংলা গান ও অর্ধশতাধিক বাংলা ছায়াছবির সঙ্গীত পরিচালনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন। ১৯৬৩ সালে তাঁর প্রযোজিত ছবিটি ছিল তার ক্যারিয়ারে আরেকটি মাইলফলক।

এই সময়কালে তিনি অনেক বাংলা ছায়াছবিতে নেপথ্য গায়ক হিসাবে কাজ করেন। ১৯৬৬ সালে শ্যামল মিত্রের প্রযোজিত ও সুরারোপিত ছবি ‘দেওয়া নেওয়া’-য় ‘গানে ভুবন ভরিয়ে দেব’ সঙ্গীত জগতের অনন্য উপহার। এ ছাড়াও তাঁর সুর করা আরো দু’টি জনপ্রিয় চলচ্চিত্র হল অমানুষ এবং আনন্দ আশ্রম। অভিনেতা হিসেবে, শ্যামল মিত্র বাংলা সিনেমা সাড়ে চুয়াত্তর এবং সাপ মোচন ছবিতে কাজ করেন।

তিনি বাংলা ভাষা ছাড়াও হিন্দি, তামিল, তেলেগু, পাঞ্জাবী, মারাঠি, ওড়িয়া এবং অসমিয়া ভাষায় গান গেয়েছেন এবং আধুনিক বাংলা গান এবং ফিল্ম গান ছাড়াও, শ্যামল মিত্র রবীন্দ্র, নজরুল, ছোটদের গান এবং অতুল প্রসাদসহ বিভিন্ন গান গেয়েছেন।

শ্যামল মিত্র ভারতীয় রেডিওর সঙ্গে দীর্ঘ দিন কাজ করেছেন। সঙ্গীত পরিচালক হিসাবে, শ্যামল মিত্র হেমন্ত মুখোপাধ্যায, তরুণ বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রতিমা বন্দ্যোপাধ্যায়, সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়, সতীনাথ মুখোপাধ্যায়, ইলা বসু, সুপ্রীতি ঘোষ, গায়ত্রী বসু, তালাত মাহমুদসহ প্রায় সকল প্রখ্যাত ও প্রধান শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করেছেন ।

  • শ্যামল মিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় গানগুলো হলো:

১। আমার স্বপ্নে দেখা রাজকন্যা থাকে, ২। ওই আঁকা বাঁকা যে পথ, ৩। কেন তুমি ফিরে এলে, ৪। দূর নয় বেশী দূর ওই, ৫। ধরো কোন এক শ্বেত পাথরের প্রাসাদে, ৬।তোমার সমাধি ৫। নাম রেখেছি বনলতা ইত্যাদি গান যুগ যুগ ধরে বাংলা গানের স্বর্ণযুগকে স্মরণ করিয়ে দেয়।

সুপার ডুপার বাংলা গানের কিংবদন্তী শ্যামল মিত্র ১৯৮৭ সালের ১৫ নভেম্বর মারা যান। শ্যামল মিত্রের শারীরিক মৃত্যু হলেও জীবন খাতার প্রতি পাতায় অমরত্বের অনন্ত আলোয় তিনি চির আলোকিত, চির উজ্জ্বল।

বাঙালী শ্রোতাদের কাছে আদৃত এই গায়কের জন্মবার্ষিকীতে সুখবর কর্তৃপক্ষ শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা জানাচ্ছে ।

এসি/ আই. কে. জে/

আরো পড়ুন:

 

 

 

 

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ