spot_img
20.4 C
Dhaka

১লা ডিসেম্বর, ২০২২ইং, ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪২৯বাংলা

আতঙ্ক ছড়াতে পাকিস্তানের হাতিয়ার এখন হোয়াটসঅ্যাপ

- Advertisement -

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, সুখবর বাংলা: পাকিস্তান ভারতে সন্ত্রাসী মনোভাব ছড়িয়ে দিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে এখন অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে আসন্ন উৎসবের মৌসুমে ভারত সরকার উচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছেন।

সম্প্রতি পাকিস্তান থেকে ভারতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলি একটি হোয়াটসঅ্যাপ বার্তা পায় যেখানে লেখা ছিল, এই বছর ভারতে মুম্বাই হামলার পুনরাবৃত্তি হবে। সাথে সাথে মুম্বাই পুলিশ উচ্চ সতর্কতার ব্যবস্থা করে, এবং সেই সাথে ভারত সরকার দেশে আতঙ্ক যেন না ছড়ায় তার জন্য সব ধরনের প্রচেষ্টা করে।

২০০৮ সালের নভেম্বরে সংঘটিত মুম্বাই হামলা বিশ্বজুড়ে চরম আতঙ্কের সৃষ্টি করেছিল। হামলাটি পরিচালিত হয় পাকিস্তানের ১০ জন সন্ত্রাসীর দ্বারা। তারা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর এজেন্টদের দ্বারা প্রশিক্ষিত ছিল। তাছাড়াও বেশ কিছু আইএসআই এবং সেনা কর্মকর্তারাও এই হামলার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সাথে জড়িত ছিল। এই হামলার ফলে বিদেশী সহ প্রায় ১৭০ জন নিহত হয়।

তারপর থেকে, বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তা এবং বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও পাকিস্তানের এ ধরনের হামলা চালানোর আশঙ্কা সর্বদাই ছিল। লস্কর-ই-তৈয়বা (এলইটি), পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত একটি সুপরিচিত বৈশ্বিক সন্ত্রাসী সংগঠন। যদিও এই হামলার সাথে তারা জড়িত ছিল বলে তথ্য পাওয়া গেছে, তবুও মুম্বাই হামলার জন্য এর কোনো নেতার বিচার বা শাস্তি হয়নি। হামলায় জড়িত থাকার প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও পাকিস্তান সেনাবাহিনী এবং আইএসআই-এর বিরুদ্ধে কোনো নিষেধাজ্ঞাই ছিল না।

তাই সম্প্রতি পাওয়া এই হুমকির বার্তাটি নিরাপত্তা সংস্থাগুলির মধ্যে যথেষ্ট উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ইতোমধ্যেই এটা জানা গেছে যে বার্তাটি লাহোরের একটি অফিস থেকে পাঠানো হয়েছে। শুধুমাত্র হুমকি পাঠানোর জন্যই মাত্র কয়েক দিনের জন্য হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টটি তৈরি করা হয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে অ্যাকাউন্টটি আইএসআই-এর ঘনিষ্ঠ কোনো ব্যক্তি পরিচালনা করছিল। আরো ধারণা করা হচ্ছে, এটি ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের নতুন ধরনের হুমকির সূচনা।

২০১২ সালের জাতিসংঘের একটি নথিতে উল্লেখ করা ছিল যে, ইন্টারনেট ব্যবহার করে, অস্ত্রের ব্যবহার সহ সহিংসতার সুস্পষ্ট হুমকি জনগণের মধ্যে উদ্বেগ, ভয় বা আতঙ্কের সৃষ্টি করতে পারে।

২০১৯ সালে, সন্ত্রাস ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিষয়ক একজন সুপরিচিত মার্কিন বিশেষজ্ঞ, পিটার চাক, সন্ত্রাসী হামলা চালানো বা পর্যবেক্ষণ করতে আইএসআই এনক্রিপ্ট করা সোশ্যাল মিডিয়া সাইট, নিরাপদ টেলিকমিউনিকেশন প্ল্যাটফর্ম এবং অনলাইন ম্যাপিং প্রযুক্তি ব্যবহার করার বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন।

এখন পর্যন্ত, হোয়াটসঅ্যাপ, ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলি সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের জন্য বিভিন্ন ধরনের কাজ এবং আর্থিক তহবিল তৈরি করতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে। তবে আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ব্যবহার করা সম্ভবত আইএসআই-এর মতো একটি পৃষ্ঠপোষক সংস্থার প্রথম প্রচেষ্টা।

কুখ্যাত সংস্থাটি ভারত সম্পর্কে বিভ্রান্তি ছড়ানোর জন্য কয়েক হাজার ভুয়া টুইটার এবং ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করছে। কিন্তু এই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোকে ব্যবহার করে আতঙ্ক সৃষ্টির প্রক্রিয়াটি তারা মূলত বিশ্বের অন্যান্য সন্ত্রাসীদের কাছ থেকেই শিখেছে।

আল-কায়েদা এবং আইএসআইএস-এর মতো বেশ কিছু বৈশ্বিক সন্ত্রাসী সংস্থা সাধারণ জনগণের পাশাপাশি সরকারের মাঝে ভয় ও আতঙ্ক সৃষ্টি করার জন্য নিহতদের রক্তাক্ত ভিডিও এবং বিভিন্ন মানুষের শিরচ্ছেদের বার্তা সম্প্রচার করতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ব্যবহার করেছে।

এই ধরনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হামলাকেও সন্ত্রাসী অপরাধের সমতুল্য বিবেচনা করা উচিত এবং জাতিসংঘ কর্তৃক অনুমোদন দেওয়া উচিত। গ্লোবাল অ্যান্টি-টেররিস্ট ফাইন্যান্সিং এজেন্সি, এফএটিএফ, যেটি পাকিস্তানকে তার ধূসর তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়ে বিবেচনা করছিল। কিন্তু এই নতুন সন্ত্রাসী হুমকি কৌশলের পরিপ্রেক্ষিতে তার এ সিদ্ধান্তকে আবারো পুনর্বিবেচনা করা উচিত।

অ/ওআ

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ