spot_img
19 C
Dhaka

৬ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ইং, ২৩শে মাঘ, ১৪২৯বাংলা

আঞ্চলিক দাবির ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক সংশোধনবাদের দিকে মনোনিবেশ করছে চীন

- Advertisement -

ডেস্ক রিপোর্ট, সুখবর ডটকম: চীন তার স্থল ও জল উভয় সীমানা জুড়ে আঞ্চলিক দাবির বিষয়ে ঐতিহাসিক সংশোধনবাদের উপর বেশি বেশি মনোযোগ দিচ্ছে।

চীনা কমিউনিস্ট পার্টি প্রতিটি কর্তৃত্ববাদী সরকারের মতোই ইতিহাস পুনর্লিখনের উপর অনেক বেশি নির্ভর করে। ক্ষমতায় উত্থান এবং বিশ্বে নিজস্ব অবস্থান সম্পর্কে আদর্শিক বর্ণনা তৈরি করতে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ধারণা করা হয়, হিমালয়ের সাথে চীনের দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তে ঝাংঝুং নামক এক প্রাচীন প্রদেশ রয়েছে যা অতীত ইতিহাসের বর্ণনা করে।

পশ্চিম তিব্বতে, বেইজিং ঝাংঝুং নিয়ে ব্যাপক গবেষণা ও খনন চালিয়েছে। কিন্তু চীনের বাইরে এ ব্যাপারে খুব কম অধ্যয়ন করা হয়েছে।

ঝাংঝুং এর সুনির্দিষ্ট সীমানা নিয়ে শিক্ষাবিদরা একমত নন। কারো কারো মতে, রাজ্যটি এখন লাদাখ, নেপাল, পশ্চিম এবং গিলগিট-বাল্টিস্তান নামে পরিচিত এলাকাগুলোর অন্তর্ভুক্ত। আবার কারো কারো দাবি এ রাজ্য এত বেশি বিস্তৃত ছিল না। তাদের মতে, এ রাজ্য নেপালের উত্তর-পশ্চিম এবং লাদাখের একটি অংশ দখল করে আছে। আবার কিছু শিক্ষাবিদদের দাবি তিব্বত এবং ঝাংঝুং প্রাচীনকালে স্বাধীন দেশ ছিল।

তিব্বতিদের মতে, ঝাংঝুং বর্তমান আধুনিক তিব্বতের অংশ।

তবে যাই হোক, রাজ্যটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ কারণ এটি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক এবং ভূ-কৌশলগত বৈচিত্র‍্যের সাথে যুক্ত, যা বর্তমানে খুঁজার চেষ্টা করছে চীন।

বেইজিং এই অঞ্চলে তার সাংস্কৃতিক, ভৌগোলিক এবং ভূ-রাজনৈতিক আধিপত্য রক্ষার জন্য সংক্রিয়ভাবে জড়িত হয়েছে। সিসিপি তিব্বতের স্বাধীনতা অস্বীকার করে এবং পরবর্তী দালাই লামা কে হবে সেই বিষয়ে চিন্তা করছে।

চীন তিব্বতি সংস্কৃতি এবং ধর্মকে ঝাংঝুং-এর সাথে সংযুক্ত করে তাদের ভারতীয় শিকড় থেকে আলাদা করতে চাইছে।

তিব্বতিদের স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ন করে চীনকে তিব্বতের ইতিহাসের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে, চীন প্রতিবেশি দেশ ভার‍তকেও একটি কঠোর ধাক্কা দিতে চাইছে।

এই যুক্তিতে সিসিপির জন্য বেশ কিছু নির্দেশনা রয়েছে। বেইজিং সেই অঞ্চলের অধিকার রক্ষার জন্য তিব্বতের দাবির সাথে ঝাংঝুং-এর উৎপত্তিকেও যুক্ত করে।

অন্য কথায়, যদি ঝাংঝুং তিব্বতের অংশ হয় এবং তিব্বত চীনের অংশ হয় তবে ঝাংঝুং এবং তিব্বত চীনেরই অংশ হবে, যেমন করে পাকিস্তান, ভারত এবং নেপালেরও কিছু অংশ চীনের।

যাইহোক, এই দাবিগুলি প্রতারণামূলক। প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ অনুসারে, তিব্বতের প্রধান ধর্ম, তিব্বতি বৌদ্ধধর্ম, ভারতীয় বৌদ্ধধর্ম থেকে এসেছে, যা কাশ্মীর থেকে লাদাখ হয়ে তারপর তিব্বত ও চীনে ছড়িয়ে পড়েছিল।

তাই সংস্কৃতি ও ধর্মের ক্ষেত্রে, তিব্বতিদের সাথে চীনাদের নয় বরং ভারতীয়দের সম্পর্ক লক্ষ্য করা যায়।

আই. কে. জে/

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ