spot_img
19 C
Dhaka

৬ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ইং, ২৩শে মাঘ, ১৪২৯বাংলা

অর্থনৈতিক সংকটে ভারতের কাছে সহযোগিতার আবেদন পাকিস্তানের

- Advertisement -

ডেস্ক রিপোর্ট, সুখবর ডটকম: পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ এবং সেনাপ্রধান জেনারেল সৈয়দ আসিম মুনির, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে যাওয়ার কারণে দেশকে ঋণ খেলাপি থেকে রক্ষা করতে সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং সৌদি আরবের কাছ থেকে ৪০ কোটি ডলার আর্থিক সহায়তা চেয়েছেন।

সংযুক্ত আরব আমিরাত পাকিস্তানকে তার নীতিগুলিকে পর্যালোচনা করতে এবং প্রতিবেশীদের (ভারতের) সম্পর্ক আরও ভালো করার জন্য স্পষ্টভাবে জানিয়েছিল।

সম্প্রতি, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সাথে কাশ্মীরের ব্যাপারে আলোচনায় বসতে চাইছেন। এর পেছনে মূল কারণ হলো, ভারতের সাথে পাকিস্তানের সংঘটিত তিনটি যুদ্ধই দেশটির জন্য দুর্দশা, দারিদ্র্য এবং বেকারত্ব ডেকে এনেছে।

পাকিস্তান অর্থনৈতিক সঙ্কটের গভীরে তলিয়ে যাচ্ছে, শরীফ আর্থিক সহায়তার জন্য বিশ্বের কাছে ভিক্ষা করছেন, অন্যদিকে ভারত দিন দিন অগ্রগতি করছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী কেন ভারতের কাছে সাহায্য চাইছেন তার শীর্ষ ১০টি কারণ খুঁজে বের করা হয়েছে।

১. পাকিস্তানে সরকার পরিবর্তনের পর, দেশের অর্থনীতি পঙ্গু হয়ে গিয়েছে, এবং অর্থনৈতিক খেলাপি এড়াতে সরকারকে রীতিমতো সংগ্রাম করতে হচ্ছে।

২. পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বৈদেশিক মুদ্রার পরিমাণ শূন্যে এসে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে চলতি অর্থবছরের পরবর্তী তিন মাসে (জানুয়ারি থেকে মার্চ) পাকিস্তানকে ৮৩ কোটি মার্কিন ডলারের বাহ্যিক ঋণ পরিশোধ করতে হবে।

৩. পাকিস্তান ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য তার প্রতিরক্ষা বাজেট জিডিপির ২.৮% থেকে ২.২% এ কমিয়ে এনেছে। সেনাবাহিনীর মুখপাত্র জেনারেল বাবর ইফতিখার এ সম্পর্কে জানিয়েছেন যে, মুদ্রাস্ফীতি এবং রুপির অবমূল্যায়নের কারণে বাজেটে বরাদ্দ কমানো হয়েছে। দেশটি ২০০২ সাল থেকে তেহরিক-ই তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) এবং অন্যান্য সন্ত্রাসীদের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত রয়েছে। প্রতিরক্ষা সূত্রের মতে, পাকিস্তানি সেনাবাহিনী তার সৈন্যদের দিনে দুইবেলা ঠিকমতো খাওয়াতে পর্যন্ত পারে না।

৪. পাকিস্তানের অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে যে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) পাকিস্তানের সামরিক বাজেটে একটি বড় অংশ দাবি করেছে যেমনটি সম্প্রতি শ্রীলঙ্কা করেছিল।

৫. ২০২২ সালের আকস্মিক বন্যা পাকিস্তানের কৃষি জমি ধুয়ে দিয়েছে এবং প্রায় ৪০০ কোটি ডলারের অবকাঠামো এবং ফসলের ক্ষতি করেছে।

৬. পাকিস্তানের নাগরিকদের চাহিদা মেটানোর জন্য সরকারের কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণে সবজি, চাল এবং গম নেই।

৭. সারা দেশে এমনকি করাচির মতো জায়গায় ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ইনসুলিনের মতো জীবনরক্ষাকারী ওষুধের ঘাটতি দেখা দিয়েছে৷ ডলারের স্বল্পতার কারণে, স্টেট ব্যাঙ্ক অফ পাকিস্তান এলসি (লেটার অফ ক্রেডিট) অনুমোদন করতে পারছে না, যার ফলে চীন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপ থেকে ওষুধ আনা সম্ভব হচ্ছে না।

৮. পাকিস্তান তার রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে পারছে না। ৪৮৬.৬ কোটি ডলারের তীব্র বাণিজ্য ঘাটতির সম্মুখীন হচ্ছে দেশটি – যা প্রত্যাশিত আমদানির চেয়ে ৫৭% বেশি। শরীফ সরকার ৮০০ টিরও বেশি অপ্রয়োজনীয় বিলাসবহুল পণ্য নিষিদ্ধ করার পরেও বাণিজ্য ঘাটতি উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে।

৯. পাকিস্তানের মিত্রদেশ চীন, সাম্প্রতিক নিরাপত্তা হুমকি এবং এই অঞ্চলে চীনা ও সিপিইসি প্রকল্পের চ্যালেঞ্জের কারণে দেশটিকে বেইলআউট দিচ্ছে না। বেলুচিস্তানে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের বেইজিংয়ের দাবিতে অসম্মত হওয়ায় চীন পাকিস্তানের প্রতি ক্ষুব্ধ বলেও জানা গেছে।

১০. ভূ-অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতার বিকাশের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাত ভারত, ইসরায়েল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে শক্তিশালী সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। সাম্প্রতিক আই২ইউ২ চুক্তি পাকিস্তানের জন্য একটি বড় ধাক্কা ছিল, যার ফলে পাকিস্তান সৌদি আরব এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো শক্তিশালী সমর্থককে হারাতে যাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পাকিস্তানের অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, সরকার ভারতের সাথে বাণিজ্য পুনরুদ্ধার করার জন্য একটি প্রস্তাব প্রস্তুত করেছে। কারণ বন্যার প্রকোপের পর শাকসবজি, গম, চাল এবং ওষুধের মতো মৌলিক জিনিসগুলো আমদানি করাটাই সহজ বিকল্প বলে মনে হচ্ছে পাকিস্তান সরকারের।

রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞরাও মনে করেন যে ওয়াঘা-আটারি এবং খোখরাপার-মুনাবাও সীমান্তের মতো সহজলভ্য বাণিজ্য পথের কারণে শুধুমাত্র ভারতই পাকিস্তানকে বেইলআউট দিতে পারে।

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ