spot_img
19 C
Dhaka

৫ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ইং, ২২শে মাঘ, ১৪২৯বাংলা

অধীনস্থদের সঙ্গে কেমন আচরণ করবেন?

- Advertisement -

ধর্ম ও জীবন ডেস্ক, সুখবর ডটকম: রাসূল (সাঃ) দাস দাসী ও অধীনস্থদের মনও যেভাবে দরকার সেভাবে জয় করে নিতেন। যেভাবে কথা বললে তাঁরা খুশি হবে তাঁদের সাথে সেভাবে কথা বলতেন। তাঁদের মনোভাব ও আবেগ অনুভূতি বোঝার চেষ্টা করতেন। যতদিন চাচা আবু তালেব বেঁচে ছিলেন ততদিন রাসূল মোটামুটি নিরাপদ ছিলেন। কিন্তু চাচা আবু তালেবের মৃত্যুর পর কোরাইশরা রাসূলকে নিপীড়ন করার সীমা ছাড়িয়ে গেল। তাই রাসূল (সাঃ) তায়েফে গেলেন। রাসূল মনে করেছিলেন, সাকীফ গোত্র তাঁকে সাহায্য করবে। তিনি যে দীন নিয়ে এসেছেন তাঁরা তা গ্রহণ করবে। এ আশায় বুক বেঁধে তিনি একাই তায়েফের উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেন।

যথাসময়ে তিনি তায়েফে পৌঁছলেন। সেখানকার সাকিফ গোত্রের বড় বড় তিনজন নেতার সাথে তিনি সাক্ষাৎ করলেন। তাঁরা ছিল সহোদর ভাই। একজনের নাম আবদে ইয়ালীল, অন্যজনের নাম মাসুদ, আর তৃতীয়জনের নাম হাবীব। তাঁদের পিতা ছিল আমর বিন ওমায়ের।

রাসূল (সাঃ) তাদেরকে আল্লাহর দিকে দাওয়াত দিলেন। ইসলাম গ্রহণের আহ্বান জানালেন। আর মক্কার যেসব লোক তার বিরোধীতা করছে তাঁদের বিরুদ্ধে রাসূলকে সাহায্য করার অনুরোধ জানালেন। কিন্তু তাঁরা কঠোর ভাষায় রাসূল (সাঃ)-এর আহ্বান প্রত্যাখ্যান করলো।

একজন বললো, ‘আল্লাহ যদি তোমাকে রাসূল হিসেবে পাঠিয়ে থাকেন তাহলে আমি কাবার গিলাফ ছিঁড়ে ফেলব।’

অন্যজন বললো, ‘আল্লাহ কি তোমাকে ছাড়া নবী বানানোর মতো আর কাউকে পান নি?’

তৃতীয়জন দার্শনিক ভঙ্গিতে বললো, ‘আমি তোমার সঙ্গে কথাই বলব না। কারণ তুমি যদি সত্যই আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত রাসূল হয়ে থাক তাহলে তোমার কথার জবাব দেয়া আমার জন্য বিপজ্জনক! আর যদি তুমি মিথ্যা বলে থাক তাহলে তো তোমার সঙ্গে আমার কথা বলার কোনো প্রয়োজনই নেই।’

তাঁদের এ অনাকাঙ্ক্ষিত উত্তর শুনে রাসূল তাঁদের কাছ থেকে চলে এলেন। তিনি সাকীফ গোত্রের কাছ থেকে কল্যাণকর কিছু আশা ছেড়ে দিলেন। তবে তিনি আশঙ্কা করছিলেন যে, তায়েফ বাসীর এ প্রত্যাখান আগের চেয়ে বেশী উৎপীড়ন করবে। তাই তিনি তাদেরকে বললেন, ‘তোমরা আমার কথা না মান কিংবা আমাকে সহযোগিতা না কর তাতে আপাতত দুঃখ নেই, কিন্তু আমি যে তোমাদের কাছ এসেছিলাম তা কাউকে জানিয়ে দিয়ো না। এটা গোপন রেখ!’

কিন্তু তাঁরা তা মানল না; বরং  রাসূল (সাঃ)-কে নিপীড়ন করার জন্য তাঁরা নিজেদের কিছু ক্রীতদাস ও নির্বোধ লোককে তার পেছনে লেলিয়ে দিল। তারা তাঁকে গালি দিতে লাগল, চিৎকার করে তাঁকে বিদ্রুপ করতে লাগল। তাদের এই চেঁচামেচিতে রাসূলের আশপাশে অনেক মানুষ জড়ো হয়ে গেল।

এভাবে উপহাস করতে করতে তারা তাঁকে রাবীয়ার পুত্র ওতবা ও শায়বার একটি বাগান পর্যন্ত নিয়ে গেল। এরপর তারা চলে গেল। ওতবা ও শায়বা তখন বাগানেই ছিল। রাসূল (সাঃ) সে বাগানে প্রবেশ করে একটি আঙুর গাছের ছায়ায় হেলাল দিয়ে বসে পড়লেন।

ওতবা ও শায়বা রাসূলকে দেখতে পেলো। তায়েফবাসীদের পক্ষ থেকে তিনি যে নিপীড়নের শিকার হয়েছিলেন তাও তারা দেখেছিল। এটা দেখে তাঁদের অন্তরে রাসূলের প্রতি মায়া লাগল।

তাঁরা তাঁদের এক খৃস্টান গোলাম আদ্দাসকে ডেকে বললো, ‘গাছ থেকে এক থোকা আঙুর পেড়ে তশতরিতে রেখে গাছের নীচে হেলাল দিয়ে বসে থাকা ঐ লোকটিকে খেতে দিয়ে এসো।’

আদ্দাস আঙুর নিয়ে আল্লাহর রাসূলের সামনে রেখে বললো, ‘নিন, এখান থেকে খান।’ আল্লাহর রাসূল হাত বাড়িয়ে ‘বিসমিল্লাহ’ বলে খেতে লাগলেন।

আদ্দাস বললো, ‘আল্লাহর শপথ! আপনি যে শব্দটি উচ্চারণ করলেন তা তো এ অঞ্চলের কারো মুখে শুনি নি।’

রাসূল (সাঃ) তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আদ্দাস! তোমার আসল বাড়ি কোথায়? তুমি কোনো ধর্মের অনুসারী?’

সে বললো, ‘আমি খৃষ্টধর্মের অনুসারী আর আমার বাড়ি নীনওয়ায়।’

আল্লাহর রাসূল (সাঃ) বললেন, ‘তুমি কি আল্লাহর প্রিয় বান্দা ইউনুস বিন মাত্তার এলাকার লোক?’ আদ্দাস বললো, ‘ইউনুস ইবনে মাত্তাকে আপনি চেনেন?’ রাসূল (সাঃ) বললেন, ‘তিনি আমার ভাই। তিনি নবী ছিলেন। আমিও নবী।’

একথা শুনে আদ্দাস  রাসূলের কপালে ও হাতে-পায়ে চুমু খেতে লাগল। ওতবা এবং শায়বা এ দৃশ্য দেখে একে অপরকে বলতে লাগল, ‘মুহাম্মদ আমাদের গোলামের  মাথাটাও নষ্ট করে দিল!’

এরপর আদ্দাস তার মালিকের কাছে ফিরে এল। তার চেহারায় রাসূল (সাঃ)-এর দর্শন ও কথোপকথনের বিশেষ দ্যুতি চকচক করছিল। তার মালিক তাঁকে বললো, ‘কী ব্যাপার, আদ্দাস! তুমি লোকোটার কপালে ও হাতে-পায়ে চুমু খেলে কেন?’

আদ্দাস বললো, ‘মনিব আমার! পৃথিবীতে এই লোকটির চেয়ে উত্তম আর কেউ নেই। তিনি আমাকে এমন তথ্য দিয়েছেন, যা কোনো নবী ছাড়া অন্য কেউ বলতে পারেন না।’

এ কথা শুনে তার মনিব বললো, ‘আদ্দাস! যাই হোক তুমি! সাবধান থেকো। সে যেন তোমাকে তোমার ধর্ম থেকে বিচ্যুত করতে না পারে। তোমার ধর্ম তো তার ধর্মের চেয়ে অনেক ভাল।’

প্রিয় পাঠক, শ্রেণি, পেশা ও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবার সঙ্গে আমাদের আচরণকে আমরা কি সবচেয়ে সুন্দর করতে পারি না?

মানুষকে মানবতার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখুন। মানুষের সঙ্গে একজন মানুষ  হিসেবেই আচরণ করুন। ধর্ম-বর্ণ, বংশ-গোত্র ও পেশা-পদবীর প্রতি লক্ষ করবেন না।

এম এইচ/ আইকেজে /

আরও পড়ুন:

ছয়টি বিষয়ের উপর ঈমান রাখতেই হবে

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ