spot_img
29 C
Dhaka
spot_imgspot_imgspot_imgspot_img

৩রা অক্টোবর, ২০২২ইং, ১৮ই আশ্বিন, ১৪২৯বাংলা

অক্সফোর্ড কিংবা ফাইজার টিকার প্রথম ডোজেই কমে করোনার ঝুঁকি: ব্রিটিশ গবেষণা

- Advertisement -

ডেস্ক রিপোর্ট, সুখবর ডটকম: করোনা টিকার প্রথম ডোজ নেয়ার পর  মরণঘাতী এই রোগটি প্রতিরোধের ক্ষমতা বাড়ে কিনা, কিংবা করোনাভাইরাসে সংক্রমণের ঝুঁকি কমে কিনা তা নিয়ে অনেক দিন ধরেই চলছে তর্ক-বিতর্ক। বিশেষ করে টিকার প্রথম ডোজ নেয়ার পর বাংলাদেশসহ বিশ্বব্যাপী হাজার-হাজার মানুষের করোনা আক্রান্ত হওয়ার খবরে বিষয়টি নিয়ে বিশ্বাস-অবিশ্বাসের জন্ম হয়েছে। এমনি প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্যের একটি গবেষণায় জানা গেছে যে, “অ্যাস্ট্রাজেনেকা অথবা ফাইজারের যেকোনো একটি টিকার প্রথম ডোজ নেয়ার পর করোনাভাইরাসে সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।” খবর বিবিসির।

গবেষণাটি বলছে, “অন্য সব বয়সীদের মতো ৭৫ বছরের বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রেও টিকা একইভাবে কাজ করে। দ্য অফিস ফর ন্যাশনাল স্ট্যাটিসটিকস (ওএনএস) ও ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ডের গবেষণা অ্যাস্ট্রাজেনেকা ও অক্সফোর্ডের টিকা নেওয়ার পর সব বয়সী মানুষের শরীরে শক্তিশালী অ্যান্টিবডির খোঁজ পেয়েছে।”

গবেষকেরা বলছেন, “দুটি টিকার যে কোনো একটি নেয়ার পর সবার মধ্যে কার্যকর প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।”

“যুক্তরাজ্যের ৩ লাখ ৭০ হাজার মানুষের করোনা পরীক্ষার ভিত্তিতে গবেষণাটি পরিচালিত হয়। তবে গবেষণাটি নিয়ে এখনো পর্যালোচনা হয়নি। এটি প্রকাশিতও হয়নি।”

প্রথম গবেষণায় দেখা গেছে, “অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা অথবা ফাইজার-বায়োএনটেকের প্রথম ডোজ টিকা নেওয়ার পর মানুষের মধ্যে করোনায় সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি ৬৫ শতাংশ কমে গেছে।”

যাদের গত বছরের ডিসেম্বর থেকে এপ্রিলের মধ্যে টিকা দেওয়া হয়েছিল, তাদের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, টিকা নেওয়ার তিন সপ্তাহ পর উপসর্গসহ করোনার সংক্রমণ ৭৪ শতাংশ কমেছে। আর উপসর্গবিহীন করোনার সংক্রমণ কমেছে ৫৭ শতাংশ।

যারা ফাইজারের টিকার দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছেন, তাদের সংক্রমণের ঝুঁকি ৯০ শতাংশ কমেছে। তবে অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার ক্ষেত্রে এ তথ্য দেওয়া সম্ভব হয়নি। কারণ, টিকাদান কর্মসূচি দেরিতে শুরু হওয়ায় খুব অল্পসংখ্যক মানুষ অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার দ্বিতীয় ডোজ নিতে পেরেছেন।

“আমরা এখনো জানি না, অ্যান্টিবডি কত দিন পর্যন্ত করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষা দিতে পারে। তবে ভবিষ্যতে আরও গবেষণার মাধ্যমে তা জানা যাবে।”

ইউনিভার্সিটি অব অক্সফোর্ডের নাফিল্ড ডিপার্টমেন্ট অব পপুলেশন হেলথের জ্যেষ্ঠ গবেষক ড. কোয়েন পোয়েল বলেন, “তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে টিকার দুই ডোজের মধ্যে ব্যবধান বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন করে ভাবা যেতে পারে। টিকার একটি ডোজ নেয়ার পর করোনার নতুন সংক্রমণ থেকে সুরক্ষার যে তথ্য পাওয়া যায়, তা প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজের মধ্যে ব্যবধান বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে। এ ব্যবধান ১২ সপ্তাহ পর্যন্ত হতে পারে।”

তবে গবেষক পোয়েল আরও বলেন, “টিকা নেয়ার পরও মানুষ আবার করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হতে পারে। তাদের থেকে অন্যরাও এতে সংক্রমিত হতে পারে।” এ কারণে তিনি সামাজিক দূরত্ব ও মাস্ক পরার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন।

“দ্বিতীয় গবেষণাটি  টিকার একটি ডোজ নিয়েছেন, এমন প্রায় ৪৬ হাজার প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তির ওপর চালানো হয়। এতে টিকা নেওয়ার পর সব বয়সী মানুষের শরীরে শক্তিশালী অ্যান্টিবডি পাওয়া গেছে। টিকা ভাইরাসের বিরুদ্ধে মানুষের শরীরের প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে উদ্দীপ্ত করতে পারে, এটি তার প্রমাণ। গবেষকেরা বলছেন, এই অ্যান্টিবডি ১০ সপ্তাহ পর্যন্ত মানুষের শরীরে কার্যকর থাকতে পারে।”

গবেষণায় আরও বলা হয়, “৬০ বছরের বেশি বয়সীদের তুলনায় এর কম বয়সীদের ক্ষেত্রে অক্সফোর্ড ও অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা বেশি কার্যকর। ফাইজারের দুটি ডোজ সব বয়সীদের ক্ষেত্রে উচ্চমাত্রায় অ্যান্টিবডি তৈরি করতে পারে।”

গবেষণায় পাওয়া আরও একটি বিস্ময়কর তথ্য হলো, “কম বয়সীদের তুলনায় ৮০ বছরের বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে ফাইজারের টিকার দ্বিতীয় ডোজ প্রতিরোধব্যবস্থাকে বেশি কার্যকর করতে পারে।”

তবে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও প্রধান গবেষক সারাহ ওয়াল্কার বলেন, “আমরা এখনো জানি না, অ্যান্টিবডি কত দিন পর্যন্ত করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষা দিতে পারে। তবে ভবিষ্যতে আরও গবেষণার মাধ্যমে তা জানা যাবে।”

সূত্র: বিবিসি।

- Advertisement -

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফলো করুন

25,028FansLike
5,000FollowersFollow
12,132SubscribersSubscribe
- Advertisement -

সর্বশেষ